Shopnobilap
দিনটা ছিলো মেঘলা আকাশ

দিনটা ছিলো মেঘলা আকাশ

এফ এম রেডিও শোনা আমার নিয়মিত অভ্যাস। আমার কাছে সকালে ঘুম থেকে উটে এফ এম রেডিও শুনতে না পারা আর চিনি ছারা চা খাওয়া একই কথা। সে দিন প্রথমবারের মতো RJ নিরঝর এর অপর আমার খুব রগ হয়েছিলো, ভাবছিলাম পরিষেশে আমিকিনা ওর ওবৈধ ফ্যান হয়ে গেলাম।

 

দিনটি ছিলো রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে রেডিও চালু করতেই শুনতে পেলাম গতোকাল রাতে বাংলাদেশের দক্ষিন পূর্রব এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর কারোনে ভিষন খয়খতি হয়েছে এবং এখন ত্রান বিতরনের কাজ চলছে। হঠাৎ করেই RJ নিরঝর এর ওপর মেজাজ টা খারাপ হয়েগেলো,  প্রোফাইল ঘেটে যতটুকু বুজেঝি মেয়েটার বাবা ওনেক ধনি, আরএ সকাল সকাল নিউজটা না ছরাইয়া তুই তোর বন্ধুদের নিয়ে জেতে পারতি, তাতে অনতোতো কিছুটা হেল্প হতো।

 

সাতপাচ ভাবতে ভাবতে তরি ঘরি করে ঘুম থেকে উটলাম এবং প্রথম বারেরে মতো বাবাকে নাবলে আলমারি থেকে মটামুটি ৫০ হাজার বা তার কিছু বেশি টাকা নিয়ে বন্ধুদের সাতে কিছু খাবার কিনে রওনা হলাম ছোট একটা পিকআপ নিয়ে। যেতে যেতে খাবার প্যাকেট করছিলাম আর RJ নিরঝর কে ইচ্ছামতো বকাবকি করছিলাম ।

 

আমাদের সেখানে পৌছাতে প্রায় বেলা ১টা বেজে গেলো, তখন ও দিনের আকাশ টা মেঘে ঢেকে আছে। গিয়ে দেখলাম ওনেক গুলো সেচ্ছাসেবক দল একত্রে কাজ করছে। আমি ও বন্ধুরা মিলে খাবার বিতরন করছিলাম হঠাৎ একটা ক্যাম্প চোখে পরলো, তাবুতে লেখা ছিলো এফ এম রেডিও ৮৯.৩। আমিতো অবাক ! খাবার বিতরন শেষে জানতে পারলাম সর্ব প্রথম ৮৯.৩ এর টিম টা এসেছে, একজন বল্লো ওইখানে একটা আপা আছে খুব ভালো। হঠাৎ RJ নিরঝর এর কথা মনে হলো, বুঝলাম ওই এসেছে আর এতেকখনে সবার মন জয় করে নিয়েছে।

 

আমি রেডিও ৮৯.৩ এর টিম এর দিকে এগিয়ে জাচ্ছিলাম আর নিজেকে ওনেক ওপরাধি মনে হচ্ছলি, নাজেনে নাবুঝে নিরঝর কে অনেক গালা গালি করেছি। যাই হোক আমি এখন নিরঝর এর সামনে দারিয়ে, ইচ্ছে করছিলো চেচিয়ে বলি আমি তেমার অনেক বড়ো ফ্যান, তোমার ভয়েছ আমার অনেক ভালো লাগে। কিন্তু চারপাশের পরিবেশ দেখে কিছুতেই বলতে পারলামনা।

 

কিন্তু এই প্রথমবারের মতো নিরঝরকে সামনে দারিয়ে দেখছি তাই কিছু না ভেবেই বলে ফেল্লাম আমি ওর অনেক বড়ো ফ্যান, ওর কথা শুনতে আমার ভিশন ভালো লাগে, প্রতিদিন সকালে আমি তার কথা শুনি। কিছুখন তাকিয়ে থেকে কথাগুলো শেনার পর নিরঝর আমার হাতে কিছু শুকনো খাবার দিয়ে বোল্লো যাওয় এগুলো বিতরণ করো। তোমাদের কাজ শেষ তাতে কি আমাদের সাথে কাজ করো।

 

প্রায় সন্ধা নেমে এসেছে, এখনো আকাশ মেঘে ঢেকে আছে । উদ্ধার কাজ এবং ত্রান বিতরন শেষ, এখন বাসায় ফিরে যাওয়ার পালা। নিরঝর বল্লো এখনতো বাস বা পিকআপ কিছুই পাবেনা, তোমার আমাদের সাথে যেতে পারো। আমি সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে সমর্থন জানালাম। সারা রাস্তায় নিরঝর এর সাথে তেমন একটা কথা হয়নি, নাম, ঠিকানা, কি করে এইগুলো ছারা কেউ কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করার সময় পায়নি। বাসায় পৌছানোর পূর্ব পর্যন্ত আমি শুধু নিরঝর এর দিকেই তাকিয়ে ছিলাম আর মনে হচ্ছিলো ও এখোন রেডিও সো করছে।

 

বাসায় এসে নিরঝরের কখন কোন সো সবকিছু মুখস্তো করে ফেল্লাম,  আমি জীবনে এতে ভালো করে কনোদিন পড়তেও বসিনি।

পরের দিন সকাল থেকে শুরু হলো আমার অবৈধ ভালবাসার আত্নপ্রকাশ। নিরঝরের প্রতিটা সো তে আমি সর্বনিম্ন ৩০ টা করে মিছকল দিতাম আর অপেক্ষা করতাম যে কখন এই জালাতনের কথাটা বলবে। কিন্তু

দেখতে দেখত প্রায় ৪ মাস হয়ে গেলো তবু ও সেই কাঙ্ক্ষিত কথাটা সুনতে পারলাাম না।

 

সেদিন রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে রেডিও অন করতেই একটা কঠোর গলায় সুনতে পেলাম শুভ সকাল। পুরো মেজাজটা বিকরে গেলো। কিছুখন পরে দরজায় নক, মা বলে উঠলো সুমন কেউ একজন তোমার সাথে দেখা করতে এসেছে। আমি বিরক্তিসরে বলেছিলাম এতো সকালে আবার কে এলো। আমার রূমে পাঠিয়ে দাও উঠতে ইচ্ছে করছেনা।

কিছুক্ষন পর নুপুরের শব্দ শুনতে পেলাম, সামনে তাকিয়ে দেখি নিরঝর হাতে অনেক গুলো প্লের্কাড নিয়ে দারিয়ে আছে।

 

আমি নিরঝরকে দেখেই অবাক।  সামনে গিয়ে দারিয়ে তুমি বলতেই, নিরঝর আমাকে একটা প্লের্কাড দেখালো সেখানে লেখাছিলো

 

নিরঝরঃ তুমি আমাকে এতেবার মিছকল দিয়ে বিরক্ত করেছে কেনো?

আমিঃ এইকথাটি শোনার জন্য।

নিরঝর আরেকটি প্লের্কাড হাতে নিয়ে, ফ্রেস হয়ে নাও বাহিরে যাবে।

আমিঃ তুমি বসো আমি ১০ মিনিটে আসছি।

অতপর দুজন একসাথে বেরহলাম, আজকে নিরঝর এর সাথে আমার ২য় বারের মতে দেখা ওকে দেখতে অনেক সুন্দর লাগছিলো, মিষ্টি কালার শাড়ির সাথে ম্যাচিং বেলাউস পড়েছে সে । চুলগুলো ছেড়ে দেয়া কোমরের নিচে দুলছে, হাতে কাছের চুরি আর পায়ে নুপুর, সবকিছু মিলে নিজেকে অসম্ভব সুন্দর করে সাজিয়েছে সে। কিন্তু আমার কৌতুহল বেরেই চলছিলো যে নিরঝর কথা বলছেনা কেনো।

 

আমি একটা রিকশা ডাকদিলাম কিন্তু নিরঝর হাত দিয়ে ইসারা করে বুঝায় দিলো লাগবেনা। তারপর ২জন কিছুটা পথ পায়ে হেটে একটা নির্জন, নিরিবিলি যায়গা গেলাম। যায়গাটা দেখেই মনে হয়েছে এখানে শুধু ২জন কতোকোপকোথন করার জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। বসার জন্য একটা ব্রেঞ্চ, আর মাথার ওপর বকুল ফুলের গাছ, সবকিছু মিলে পরিপূর্ণ একটা সকাল পেয়েছিলাম। কারণ যার ভয়েছ শুনে আমার ঘুম ভাঙতো আজ সে আমার পশে বসে আছে ।

 

তোমাকে দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে যেন প্রকৃতির সাথে মিশে আছো, এইটা শুনতেই নিরঝর দাঁড়িয়ে গেলো, আমাকে একেরপর এক প্লের্কাড দেখাচ্ছিলো আর অঝর ধারায় কাদছিলো। সবষেশে বুঝতে পারলাম নিরঝর কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে  আর ওর এ পরিনতির জন্য শুধু মাত্র আমি দায়ি। গত কয়েক দিন আগে নির্ঝর যখন গাড়ি চালাচ্ছিল তখন আমি ওকে অনেক বার মিস কল দিচ্ছিলাম, আমার ওপর বিরক্ত হয়ে ফোন টা হাতে নেয় যার কারণে নির্ঝরের একসিডেন্ট হয়। এতে সে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে।

পুরো আকাশ টা মেঘে ঢেকে গেছে, কখন যেন বৃষ্টি নামবে। কিকরবো নাকরবো  কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। হঠাৎ নিরঝর আমাকে জরিয়ে ধরে অঝর ধারায় কাদলো আর কিছুখন পর চলে গেলো, আমি তাকে ডাকতে পারিনি কারন আমার গলা সুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিলো, সেদিন সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও আমি বোবা হয়ে গিয়েছিলাম, কিছুই বলতে পারিনি। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত নিরঝর এর সাথে আমার দেখা হয়নি। কিন্তু ও যে যে সময়ে সো করতো ওই সময়গুলো আমি মিস করি। রেডিও শুনি আার ভাবি কনো একদিন হয়তো আবারও নিরঝরের কথা সুনতে পাবো।

Muradul Hasan

Show Buttons
Hide Buttons
error: Don\'t Try To Copy Please !!